সরকার পতন করার হুমকি দিলে রাজপথেই তার জবাব দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। তিনি বলেছেন, ‘আপনারা (বিরোধী দল) যদি আমাদেরকে পতনের হুমকি দেন, তাহলে বিরোধী দলের অবস্থান থেকে আপনাদেরই পতন ঘটানো হবে, ইনশাআল্লাহ।’
বুধবার (২৯ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২৪তম দিনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
বর্তমান সরকারের বৈধতা তুলে ধরে ইশরাক হোসেন বলেন, ‘এই সরকার ২০০৮ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসেনি; ১৪, ১৮ কিংবা ২৪-এর (পূর্ববর্তী সরকার) মতো নির্বাচনের মাধ্যমেও আসেনি। আমরা জনগণের সরাসরি ভোটের মাধ্যমে ম্যান্ডেট পেয়ে এই সংসদে এসেছি। আমাদের যদি কেউ হুমকি-ধমকি দিয়ে মনে করে সরকার পতন করবে, তবে আমি সংসদ নেতার উদ্দেশে বলতে চাই– আপনি খালি হুকুম দেবেন, বিগত দিনে আপনার নির্দেশে যেভাবে রাজপথে থেকে ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা ও খুনি হাসিনার পতন করেছি, একইভাবে এবারও আমরা রাজপথে অবস্থান নেব।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিরোধী দলের সদস্যরা সংসদে সুন্দর বক্তব্য দেন, আমরা তাদেরকে অ্যাপ্রিশিয়েট করি। কিন্তু তারা সংসদের বাইরে এবং ভেতরেও যেভাবে বক্তব্য রাখছেন, তার মাধ্যমে যে বিষবাষ্প ছড়ানো হচ্ছে, তার প্রভাব আমরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে দেখতে পাচ্ছি। ক্যাম্পাসগুলো উত্তপ্ত হচ্ছে, ছাত্র সংগঠনের মধ্যে সংঘর্ষ হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।’
তিনি আরও বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার জ্বালানি সংকট নিয়ে একটি কার্যকর কমিটি গঠন করা হলো, বিরোধীদলীয় নেতাও ইতিবাচক বক্তব্য রাখলেন। কিন্তু পরের দুই দিন সংসদ বন্ধ থাকাকালীন তাদের নেতাদের বিভিন্ন জায়গায় জনগণকে উসকানি দিয়েছেন। এমনকি ১৭ দিনের মধ্যে সরকার হটানোর হুমকিও দেওয়া হয়েছে।’
ইশরাক হোসেন বলেন, ‘আমরা কোনো বিভক্তির রাজনীতি চাই না, শান্তির রাজনীতি চাই। ২৪-এর আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে হলে আমাদের একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। আপনারা যদি অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করেন, তবে তাতে একমাত্র লাভবান হবে পলাতক ফ্যাসিবাদের দোসররা। তারা যদি আবার ফিরে আসে, তবে আন্দোলনকারীদের কী অবস্থা করবে, তা কি আপনারা ভেবে দেখেছেন?’
বিরোধী দলের প্রতি সহনশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘খুনি স্বৈরাচারী হাসিনার আমলে যে অপসংস্কৃতি চালু হয়েছিল, সেখান থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে। আমরা পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত হয়েছি, কথা বলার আরও সুযোগ পাব। আসুন, পরস্পরকে হেয় না করে একটি ঐক্যের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করি।’
খুলনা গেজেট/এএজে

